আরিফ খন্দকারARIF KHANDAKER← সব বই
এই শহরে শিউলি ফোটে — প্রচ্ছদ

উপন্যাস · ইবুক

এই শহরে শিউলি ফোটে

আরিফ খন্দকার

ধরন
উপন্যাস · ইবুক
প্রকাশনী
বইটই
প্রকাশকাল
২০২৪
মূল্য
৫০ টাকা

সারসংক্ষেপ

হাসনাত তার মায়ের বান্ধবীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েছে। নাম রঙ্গনা। রঙ্গনা যখন মাঝেমধ্যেই হাসনাতের মায়ের কাছে আসতো তখনই হাসনাত বুঝতে পারত রঙ্গনা এই বাসায় একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আসে। এই উদ্দেশ্যটাই হল হাসনাতের মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগে হাসনাতকে খানিকটা দেখে যাওয়া। প্রায় সময়ই রোকসানার সঙ্গে কথা বলতে বলতে কোন না কোন বাহানায় রঙ্গনা হুটহাট করেই হাসনাতের রুমে চলে আসতো। হাসনাত তখন লজ্জা পেয়ে যেত খুব। ভীষণ ইতস্তত বোধ করত।

রোকসানা হাসনাতের মা। রঙ্গনা রোকসানার সেই ছোটবেলার বান্ধবী। কিন্তু বয়সের এত ফারাক, এত তফাৎ তাও হাসনাতের প্রেমে কি করে পড়েছে রঙ্গনা? তার ভেতর কি একটুও কাঁপলো না সন্তানের বয়সী একটা ছেলের প্রেমে এভাবে পড়তে? যদিও প্রেমের কোন বয়স নেই তবুও। এইতো কিছুদিন আগে এমন হয়েছে দুপুর বেলা। হঠাৎ করে রঙ্গনা তাদের বাসায় আসে। সেদিন হাসনাতের মা রোকসানা বাসায় ছিল না। সে গেছে হাসনাতের ছোট বোনকে স্কুল থেকে আনতে। সেই সুযোগে রঙ্গনা বাসায় এসে হঠাৎ করে হাসনাতকে জড়িয়ে ধরে বলে, 'তুমি কিছু বুঝতে পারছ না?'

হাসনাত কোন কথা বলতে পারছে না বরং সে রীতিমতো থতমতো খেয়ে গেছে। তার কাছে কেমন যেন উলটপালট মনে হচ্ছে। হাসনাত সত্যিই কিছু বুঝতে পারছে না। মায়ের বয়সী একজন মহিলার প্রেম সে কি করে বুঝবে? হাসনাত সদ্য ভার্সিটি শেষ করেছে। রঙ্গনার বয়স পঁয়তাল্লিশ ছুঁইছুঁই আর হাসনাত আটাশ। এই যে বয়সের মধ্যে এত ফারাক, এত তফাৎ এর মধ্যেই সে কি করেই বা বুঝে! হাসনাত সত্যিই কিছু বুঝতে পারছে না।

তবে সে ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায়। যখন হাসনাতকে জড়িয়ে ধরেছে তখন সে খানিকটা উত্তেজিত হতে গিয়েও আবার নিজেকে স্বাভাবিক করে ফেলে। ভেতরে ভেতরে ভেবে ভীষণ রকম ভালো লাগে জীবনে এই প্রথম কোন নারী তাকে জড়িয়ে ধরেছে। এর আগে এমন করে কেউই তাকে জড়িয়ে ধরেনি! অবশ্য হাসনাত লজ্জা পায়। ছোটবেলা থেকেই সে ভীষণ লাজুক। মেয়েদের দেখলে চোখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা মাথা নিচু করে ফেলে।

অবশ্য রঙ্গনার বয়স পঁয়তাল্লিশ হলেও সে দেখতে এখনো পঁচিশ বছরের যৌবনে টলমল করা যুবতীর মতন। চেহারায় বয়সের কোন ছাপ নেই তার। সেদিন হাসনাত রঙ্গনার চোখের দিকে ভালোমতো তাকাতে পারিনি লজ্জার কারণে। রঙ্গনা নিজেই বাসার দরজাটা বন্ধ করে হাসনাতের রুমে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে খানিকক্ষণ বসে। হাসনাতের মাথার প্রত্যেকটা চুল রঙ্গনা তার হাতের আঙ্গুল দিয়ে চিরুনির মতন করে আলতো বুলিয়ে নিতে থাকে। হাসনাতের ভালো লাগে। যদিও ভেতরে ভেতরে এক ধরনের শিহরণ অনুভব করতে থাকে কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারে না।

এর মধ্যে রোকসানা বাসায় চলে আসে। রঙ্গনা হাসনাতের রুম থেকে উঠে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে। কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যায়। অবশ্য যাবেই তো কারণ সে তো আর রোকসানার সঙ্গে কথা বলার জন্য আসেনি, রঙ্গনা এসেছে কেবল রোকসানা না থাকার এই সময়টায় হাসনাতকে খানিকটা নিজের কাছে পাওয়ার এক ধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তারপর থেকে রঙ্গনা হাসনাতের সঙ্গে নিয়ম করে প্রতি রাতে কথা বলতে শুরু করে। হাসনাতও বলে। ভেতরে ভেতরে সে টের পায় সময় যত গড়াচ্ছে জলের মতন করে রঙ্গনার প্রতি একধরনের ভালোলাগা কিংবা মোহ তার তৈরি হয়ে যায়।

রঙ্গনার সঙ্গে ইদানিং হাসনাতের কথা বলতে বলতে কখন যে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায় তা যেন সে টেরই পায় না। রঙ্গনাও ফোন রাখতে চায় না। হাসনাতের সঙ্গে কথা বলতে তার ভীষণ ভালো লাগে। ইচ্ছে করে হাসনাতকে একদম নিজের করে ভীষণ কাছে পেতে। হাসনাতও বুঝতে পারছে ধীরে ধীরে সে রঙ্গনার প্রতি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যতটা দুর্বলতা নেশায় পরিণত হয়, যতটা দুর্বলতায় মানুষ আসক্ত হয়ে ওঠে ঠিক এতটা দুর্বলতা।

রঙ্গনা মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে হাসনাত যখন বলবে তখন তাকে বিয়ে করে ফেলবে। সে কেবলই চাচ্ছে হাসনাতকে তার নিজের করে পেতে। রঙ্গনার বিয়ে হয়েছে। তার একটা সন্তানও আছে। কিন্তু বিয়ের বারো বছর পর তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তার স্বামী সন্তানকে নিয়ে আলাদা চলে যায়। রঙ্গনা তখন হয়ে পড়ে একা। তখন থেকেই সে হাসনাতের প্রেমে পড়তে শুরু করে। অবশ্য হাসনাত প্রেমে পড়ার মতই ছেলে। দেখতে ভীষণ সুদর্শন সে।

মাঝেমধ্যে রঙ্গনার সঙ্গে হাসনাতের বাহিরেও দেখা হয়। অবশ্য এই দেখা করার কথাটা এখন হাসনাত নিজে থেকেই বলে। কখনো পার্কে কিংবা কখনো কোন একটা রেস্টুরেন্টে। দেখা করতে করতে দু'জন দু'জনের প্রতি বড় বেশি নরম হয়ে যায়, মোলায়েম হয়ে ওঠে। জলের মতন কিংবা শিমুল তুলোর মতন। এইতো গতকাল বিকেলেও রমনা পার্কে চলে যায় হাসনাত। রঙ্গনা আসে। রঙ্গনার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে বিকেলের আলো মিইয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো, কখন যে আধো অন্ধকারে মিহি সূর্যের আলো ডুবে গেল তা যেন সে টেরই পায়নি।

রঙ্গনা পাতা রঙের একটা শাড়ি পরে এসেছে। তাকে কি যে রূপবতী লাগছিল না দেখতে, কি যে মায়াবী, কতটা অপূর্ব লাগছিল তা হাসনাত বলে শেষ করতে পারবে না। তার কাছে কেবলই মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পাতাটা বুঝি কিংবা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পাখিটা বুঝি হাসনাতের সামনে। এই পাতাটা কিংবা এই পাখিটাকে হাসনাত তার ভেতরে বুকের মধ্যে পুষতে শুরু করেছে। সে খুব ভালোমতোই টের পাচ্ছে এখন বুঝতে পারছে রঙ্গনার কাছ থেকে হাসনাতের পক্ষে এই মুহূর্তে অন্তত আর বের হওয়া সম্ভব নয়। বুঝতে পারছে জীবনের নতুন কোন অধ্যায় শুরু করতে হলে বোধহয় তাকে নিয়েই করতে হবে।

হাসনাত কিছুটা হতাশাগ্রস্তও কারণ রঙ্গনা তার মা রোকসানার বান্ধবী। এই বিষয়ে তার মাকে কোন কিছুই জানতে দেওয়া যাবে না কিংবা জানানো যাবে না। এটা লজ্জাকর এবং একই সাথে বিব্রতকরও। হয়তোবা এই বিষয়টা খবরের কাগজে কিংবা টেলিভিশনেও জানাজানি হয়ে যেতে পারে যে 'মায়ের বান্ধবীকে ছেলের বিয়ে'। রঙ্গনাকে বিয়ে করে তার সঙ্গে থাকতে হলে পালিয়ে থাকতে হবে কিংবা পরিবার থেকে নিজে থেকেই একটা দূরত্ব তৈরি করে ফেলতে হবে।

হাসনাত কি করে কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। তার কাছে সবকিছু কেমন যেন ঝড়ের মতন এলোমেলো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে দু'চোখের আলো ক্রমশই সরে যেতে শুরু করেছে। অন্ধকার ধেয়ে আসতে শুরু করেছে। এই অন্ধকার থেকে বের হওয়ার উপায় কি? জানেনা হাসনাত। বিয়ের পর রঙ্গনার সাথে হাসনাতের বোঝাপড়াটা কেমন হবে কিংবা তাদের দাম্পত্য জীবন কেমন কাটবে এটা নিয়েও খানিকটা দুশ্চিন্তা কাজ করছে তার ভেতর। কারণ হাসনাতের রঙ্গনার মধ্যে যে বয়সের বেশ খানিকটা ফারাক রয়েছে।

ভেতরে ভেতরে হাসনাত কোন কিছুতেই স্থির হতে পারছে না। না কোন সিদ্ধান্ত, না কোন একটা চিন্তা। সবকিছু কেমন যেন গোলমাল পাকিয়ে ফেলছে সে। হযবরল অবস্থা তৈরি করে ফেলছে ভেতরে ভেতরে। মনে হচ্ছে অথৈ সমুদ্রের জলের গভীরে ডুবে যাওয়ার মতন করে ধীরে ধীরে একটা ঘোরের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে সে। হাসনাত বুঝতে পারছে এই ঘোরটা তাকে যন্ত্রণা দিবে খুব কিন্তু বুঝতে পেরেও কেন জানি এটাকেই বুকের মধ্যে খুব গোপনে নিজের মতো করে পুষে রাখতে ইচ্ছে করছে। উড়ে যাওয়ার ভয় থাকার পরও মানুষ একটা পাখিকে যেমন খাঁচায় বন্দী করে পুষতে শুরু করে ঠিক এমন করেই এই ঘোরটা ভীষণ কষ্ট দেবে জেনেও হাসনাতের কেন জানি পুষে রাখতে ইচ্ছে করছে।

রেটিং ও রিভিউ

রিভিউ আনা হচ্ছে…

একই ধরনের আরও বই

বৃষ্টি তোমাকে দিলামবৃষ্টি তোমাকে দিলামউপন্যাসএক দুপুরের নির্জনতায়এক দুপুরের নির্জনতায়উপন্যাস · ৫০ টাকাহলুদ ফুলের খোঁপাহলুদ ফুলের খোঁপাউপন্যাস · ৫০ টাকাসেদিন চৈত্রমাসসেদিন চৈত্রমাসউপন্যাস · ৭৫ টাকা